Home / জাতীয় / বিদিশার টার্গেট সুইস ব্যাংক

বিদিশার টার্গেট সুইস ব্যাংক

বিদিশা এরশাদের সাবেক স্ত্রী এবং এরশাদের একমাত্র সন্তান এরিকের মা। বিদিশার সঙ্গে এরশাদের বিয়ের পর থেকেই বিদিশা এরশাদের গোপন সম্পদের ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন এবং এরশাদের গোপন রাখা,

বেনামে রাখা সম্পদগুলোর দিকে নজর ছিল। এরশাদ নিজেই অভিযোগ করেছিলেন যে, বিদিশা তার টাকার জন্য অত্যন্ত লোভী এবং বিদিশার বিরুদ্ধে তিনি যে সমস্ত অভিযোগ করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ছিল তার অর্থ আত্মসাৎ।

সাম্প্রতিককালে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, সুইস ব্যাংকে জাতীয় পার্টির প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের অ্যাকাউন্ট থেকে বিদিশা গোপনে বেশ কিছু টাকা

তার লন্ডনের একাউন্টে সরিয়েছেন। বিদিশা এরশাদের যে সুইস ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট সেই একাউন্টের কোড নাম্বার এবং অন্যান্য গোপন তথ্য দিয়ে গোপনে এই টাকা আত্মসাৎ করেন বলেও জাতীয় পার্টি থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

এরকম বাস্তবতায় এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বিদিশা। এরশাদের মৃত্যুর পর থেকেই বিদিশা এরিককে সামনে নিয়ে এরশাদের রত্নভান্ডার উদ্ধারের মিশনে নেমেছিলেন। কিন্তু প্রথম দিকে সেই মিশনে তিনি তেমন সফল হতে পারেননি। এখন তিনি একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছেন বলেই বিভিন্ন মহল মনে করছেন।

বিশেষ করে ২১ বছর বয়সী এরিক এরশাদকে সামনে নিয়ে আসা এবং রওশন এরশাদের সাথে সমঝোতা বিদিশার মিশনের অনেকখানি অগ্রগতি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য যে, বিদিশা এরশাদের কোথায় কি নামে বেনামে সম্পদ আছে সেই সম্পর্কে তথ্যগুলো জানেন। এরশাদের সাথে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পরও এরিককে ব্যবহার করে এরশাদের কাছ থেকে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন এমন অভিযোগ করেন জাতীয় পার্টির অনেক নেতা।

আর এরশাদও এরিকের প্রতি ভালোবাসার জন্য সেই সময় এরিককে এবং বিদিশাকে বিপুল অর্থ দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ। এরকম পরিস্থিতিতে এরশাদের মৃত্যুর পর ট্রাস্ট গঠিত হয়েছিল। সেই ট্রাস্টেই এরশাদের বৈধ সমস্ত সম্পদগুলো রয়েছে। কিন্তু বিদিশা জানেন যে, সুইস ব্যাংকে এরশাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রয়েছে। এই অর্থ উদ্ধারের জন্য বিদিশাকে অবশ্যই রওশন এরশাদের সঙ্গে আঁতাত করতে হবে এবং তিনি রওশন এরশাদের সাথে কথা বলে রওশন এরশাদকে বুঝিয়েছেন বলেও জানা গেছে। আর এটুকুই যথেষ্ট নয়।

বিদিশা এটাও জানেন যে, জাতীয় পার্টিতে যতক্ষণ পর্যন্ত জি এম কাদের চেয়ারম্যান থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত এরশাদের রত্নভাণ্ডার উদ্ধার করা, সুইস ব্যাংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য প্রায় অসম্ভব। আর এ কারণেই বিদিশা এখন বিকল্প জাতীয় পার্টি গঠন করার চেষ্টা করছেন। এরশাদের মৃত্যুর পর থেকেই জাতীয় পার্টি কর্তৃত্ব চান বিদিশা। তার মূল কারণ হলো সুইস ব্যাংকে টাকা। বিদিশাই ভালো জানেন যে, সুইস ব্যাংকে টাকা উদ্ধারের জন্য কি কি করতে হবে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই বিদিশা এগুচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অন্তত দুজন ব্যক্তি যারা বিদিশার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ তারা নিশ্চিত করেছেন যে, বিদিশার মূল টার্গেট হলো সুইস ব্যাংকে টাকা উদ্ধার এবং সেই টাকাটি এরিকের কাছে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু যে আইনি জটিলতা রয়েছে তাতে সুইস ব্যাংকের টাকা উদ্ধারের জন্য তাকে দুটি দুর্গ জয় করতে হতো। প্রথমত, রওশন এরশাদকে এরিকের সঙ্গে নিয়ে আসতে হতো। দ্বিতীয়ত, জাতীয় পার্টির একটি অংশকে তার পক্ষে নিয়ে আসতে হতো। আর এ কারণেই বিদিশা এখন মাঠে নেমেছেন এরিক এরশাদকে সামনে রেখে। শেষপর্যন্ত সুইস ব্যাংকের তালা বিদিশা খুলতে পারবেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

Check Also

মোটা বেতনে একাধিক এনজিওতে চাকরি, আবেদন করুন আজই

বর্তমান কোভিড পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য একাধিক এনজিও প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ঘরে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *